বিয়ে
বিয়ের কার্ডের লেখা: বাঙালি বিয়ের জন্য ৩০টি নমুনা, কপি করার জন্য তৈরি
· পড়তে 3 মিনিট
বিয়ের কার্ডের লেখা দিয়েই আত্মীয়-বন্ধুরা প্রথম জানতে পারেন বাড়িতে শুভ কাজ। ওপরে প্রজাপতির নাম, তারপর সবান্ধব নিমন্ত্রণ, আশীর্বাদ থেকে বৌভাত পর্যন্ত প্রতিটি অনুষ্ঠানের দিন, সময় আর জায়গা, আর শেষে 'বিনীত' লিখে নিমন্ত্রণকর্তাদের নাম। কার্ডের প্রতিটি অংশের বাংলা লেখা এখানে দেওয়া হলো: যেমন আছে তেমনই কপি করুন, বা নিজের পরিবারের মতো করে নাম আর তারিখ বদলে নিন।

বিয়ের কার্ডে কী লিখবেন
বাঙালি বিয়ের কার্ড সাধারণত এই ক্রমে লেখা হয়। প্রতিটি অংশের লেখা নিচে দেওয়া আছে।
- মঙ্গলাচরণ: শ্রী শ্রী প্রজাপতয়ে নমঃ, বা পরিবারের ইষ্টদেবতার নাম।
- নিমন্ত্রণ: কে, কার বিয়েতে, কাকে নিমন্ত্রণ করছেন।
- পাত্র-পাত্রীর নাম, বাবা-মায়ের নাম সহ।
- দিন ও লগ্ন: বাংলা ও ইংরেজি তারিখ, বার, শুভ লগ্নের সময়।
- অনুষ্ঠান: আশীর্বাদ, আইবুড়োভাত, গায়ে হলুদ, বিবাহ, বৌভাত।
- বিনীত: নিমন্ত্রণকর্তা গুরুজন ও পরিবার।
প্রজাপতি ও মঙ্গলাচরণ
বাঙালি বিয়ের কার্ডের মাথায় বিয়ের দেবতা প্রজাপতির নাম লেখার রীতি, সঙ্গে অনেকে প্রজাপতির ছবিও দেন।
প্রজাপতি
শ্রী শ্রী প্রজাপতয়ে নমঃ
গণেশ
শ্রী শ্রী গণেশায় নমঃ
দুর্গা
শ্রী শ্রী দুর্গা সহায়
শুভ বিবাহ
॥ শুভ বিবাহ ॥
দুটিই একসঙ্গে
শ্রী শ্রী প্রজাপতয়ে নমঃ ॥ শ্রী শ্রী গণেশায় নমঃ
নিমন্ত্রণের লেখা
সাধু ভাষায়, মেয়ের বিয়ে
সবিনয় নিবেদন, আগামী ২১শে মাঘ ১৪৩৩, ইংরেজি ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০২৭, বৃহস্পতিবার শুভলগ্নে আমার কন্যা কল্যাণীয়া শ্রীমতী ঋতুপর্ণার সহিত শ্রী সুব্রত বসু ও শ্রীমতী রত্না বসুর পুত্র কল্যাণীয় শ্রীমান অনির্বাণের শুভ বিবাহ অনুষ্ঠিত হইবে। এই শুভ অনুষ্ঠানে আপনার সবান্ধব উপস্থিতি ও আশীর্বাদ একান্ত কাম্য।
সাধু ভাষায়, ছেলের বিয়ে
সবিনয় নিবেদন, প্রজাপতির নির্বন্ধে আমার পুত্র কল্যাণীয় শ্রীমান অনির্বাণের সহিত শ্রী দেবাশিস মুখোপাধ্যায় ও শ্রীমতী শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়ের কন্যা কল্যাণীয়া শ্রীমতী ঋতুপর্ণার শুভ বিবাহ স্থির হইয়াছে। এই উপলক্ষে আপনার সপরিবার উপস্থিতি প্রার্থনা করি।
চলিত ভাষায়
আমাদের বাড়িতে বিয়ে! অনির্বাণ আর ঋতুপর্ণার শুভ বিবাহে আপনারা সপরিবারে অবশ্যই আসবেন, এই আমাদের আন্তরিক অনুরোধ।
পাত্র-পাত্রীর পক্ষ থেকে
আমরা দুজনে জীবনের নতুন পথে পা রাখছি, আর এই আনন্দের দিনে তোমরা পাশে থাকো, এটুকুই চাওয়া। আমাদের বিয়েতে অবশ্যই এসো। — অনির্বাণ ও ঋতুপর্ণা
শুভ বৌভাত
সবিনয় নিবেদন, আমার পুত্র কল্যাণীয় শ্রীমান অনির্বাণ ও পুত্রবধূ কল্যাণীয়া শ্রীমতী ঋতুপর্ণার শুভ বৌভাত উপলক্ষে আগামী ৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৭, শনিবার সন্ধ্যায় প্রীতিভোজে আপনার সবান্ধব উপস্থিতি প্রার্থনীয়।
অনুষ্ঠানের লেখা
প্রতিটি অনুষ্ঠান আলাদা লাইনে লিখুন: অনুষ্ঠানের নাম, বার ও তারিখ, সময় আর জায়গা। অতিথিরা এক নজরে বুঝে যাবেন কবে, কোথায় আসতে হবে।
আশীর্বাদ
আশীর্বাদ: রবিবার, ১০ই জানুয়ারি ২০২৭, সকাল ১১টা, পাত্রীর বাসভবনে
আইবুড়োভাত
আইবুড়োভাত: বুধবার, ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০২৭, দুপুর ১টা
গায়ে হলুদ
গায়ে হলুদ: বৃহস্পতিবার, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০২৭, সকাল ৯টা
বরযাত্রী
বরযাত্রী রওনা: বৃহস্পতিবার, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০২৭, সন্ধ্যা ৬টা, পাত্রের বাসভবন থেকে
শুভ বিবাহ
শুভ বিবাহ (শুভ লগ্ন): বৃহস্পতিবার, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০২৭, রাত ৯টা ১৫ মিনিট থেকে, আলোছায়া ব্যাঙ্কোয়েট, কলকাতা
প্রীতিভোজ
প্রীতিভোজ: বৃহস্পতিবার, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০২৭, সন্ধ্যা ৭টা থেকে
বৌভাত
বৌভাত ও প্রীতিভোজ: শনিবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৭, সন্ধ্যা ৭টা, পাত্রের বাসভবন, হাওড়া
দ্বিরাগমন
দ্বিরাগমন: সোমবার, ৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৭
বিনীত ও নিবেদক
কার্ডের শেষে 'বিনীত' লিখে নিমন্ত্রণকর্তা গুরুজন ও পরিবারের নাম দেওয়া হয়।
বাবা-মা
বিনীত, শ্রী দেবাশিস মুখোপাধ্যায় ও শ্রীমতী শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়
দাদু-দিদা
আশীর্বাদক, শ্রী অমলকান্তি মুখোপাধ্যায় ও শ্রীমতী গৌরী মুখোপাধ্যায় (দাদু-দিদা)
পরিবারের সকলে
শুভেচ্ছান্তে, মুখোপাধ্যায় পরিবারের সকলে
লৌকিকতা
লৌকিকতার পরিবর্তে আশীর্বাদই কাম্য।
ছোটদের আবদার
কার্ডের শেষে বাড়ির ছোটদের নামে একটা মিষ্টি লাইন থাকলে পড়ে সবাই হেসে ফেলেন।
মামার বিয়ে
মামার বিয়েতে কিন্তু আসতেই হবে, নইলে আমি আড়ি করে দেব! — তোমাদের আদরের তিন্নি
কাকুর বিয়ে
কাকুর বরযাত্রীতে সবাই মিলে নাচব, তাড়াতাড়ি চলে এসো! — রিভু আর রায়ান
পিসির বিয়ে
আমার মিষ্টি পিসির বিয়েতে তোমরা না এলে একটুও মজা হবে না। আসবে কিন্তু! — ঋজু
দিদির বিয়ে
দিদির বিয়েতে রসগোল্লা আছে, ফিশ ফ্রাই আছে, শুধু তোমরাই নেই। চলে এসো! — মিঠি
ছোট্ট করে
দাদার বিয়েতে আসতে ভুলো না কিন্তু! — ছোট্ট পিউ
WhatsApp-এ পাঠানোর বার্তা
আজকাল অনেক বিয়ের কার্ডই WhatsApp-এ পাঠানো হয়। ডিজিটাল কার্ডের লিংকের সঙ্গে এমন ছোট্ট বার্তা লিখুন।
আত্মীয়দের জন্য
নমস্কার 🙏 অনির্বাণ ও ঋতুপর্ণার শুভ বিবাহের নিমন্ত্রণপত্র পাঠালাম। আপনারা সপরিবারে অবশ্যই আসবেন। সব অনুষ্ঠান আর ঠিকানা এই লিংকে আছে, উত্তরও সেখানেই জানাতে পারবেন:
বন্ধুদের জন্য
সুখবর! ৪ঠা ফেব্রুয়ারি অনির্বাণ আর ঋতুপর্ণার বিয়ে 🎉 গায়ে হলুদ, বিয়ে আর বৌভাত, সব এই কার্ডে আছে। আসছিস কিনা লিংকে এক ট্যাপে জানিয়ে দে:
মনে করিয়ে দিতে
নমস্কার 🙏 কাল সকালে গায়ে হলুদ, রাতে শুভ বিবাহ। জায়গার ম্যাপ কার্ডেই আছে। আপনাদের অপেক্ষায় রইলাম!
ডিজিটাল বিয়ের কার্ড কীভাবে বানাবেন
- বাঙালি বিয়ের ডিজাইন থেকে একটি বেছে নিন। লাল-সাদা রাজবাড়ি, শোলার কাজের মতো বাংলার নিজস্ব ঢঙের ডিজাইনও আছে।
- কার্ডের ভাষা বাংলা রাখুন। ওপরের লেখা কপি করে নাম, তারিখ আর জায়গা বদলে দিন।
- প্রতিটি অনুষ্ঠান যোগ করুন: আশীর্বাদ, গায়ে হলুদ, শুভ বিবাহ, বৌভাত। প্রতিটি অনুষ্ঠান নিজের পাতায় দেখায়, সময় আর ম্যাপ সহ।
- লিংকটি WhatsApp-এ পাঠান। কতজন আসছেন, অতিথিরা লিংকেই জানিয়ে দিতে পারেন।
ইংরেজিতে লেখা চাইলে wedding invitation wording দেখুন। বিয়ের অনুষ্ঠানগুলি নিয়ে জানতে Indian wedding functions আর বৌভাতের মতো রিসেপশনের নিমন্ত্রণের জন্য reception invitation wording পড়ুন।
প্রশ্ন
- বিয়ের কার্ড কবে পাঠানো উচিত?
- বিয়ের তিন থেকে চার সপ্তাহ আগে কার্ড পাঠানো ভালো। দূরের অতিথিদের আরও আগে পাঠান, যাতে তাঁরা যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে পারেন।
- বিয়ের কার্ডে প্রজাপতি কেন থাকে?
- প্রজাপতি বিয়ের দেবতা। তাই বাঙালি বিয়ের কার্ডের মাথায় 'শ্রী শ্রী প্রজাপতয়ে নমঃ' লেখা হয়, অনেকে প্রজাপতির ছবিও দেন।
- বৌভাতের কার্ড আলাদা কেন?
- বৌভাত হয় পাত্রের বাড়িতে, বিয়ের পরে। তাই পাত্রের পরিবার নিজেদের অতিথিদের জন্য আলাদা নিমন্ত্রণপত্র পাঠান, অথবা বিয়ের কার্ডেই বৌভাতের তারিখ লিখে দেন।
- 'লৌকিকতার পরিবর্তে আশীর্বাদই কাম্য' মানে কী?
- এর মানে অতিথিরা যেন কোনো উপহার না আনেন, শুধু আশীর্বাদ নিয়ে আসেন। উপহার না চাইলে কার্ডের শেষে এই লাইনটি লেখা হয়।
বিয়ে উপলক্ষের ডিজাইন, অতিথির মতো খুলে দেখুন
বিয়ে উপলক্ষে নিমন্ত্রণপত্র তৈরি করুন
একটি ডিজাইন বেছে নিন, আপনার লেখা আর অনুষ্ঠান যোগ করুন, তারপর WhatsApp-এ পাঠান। অতিথিরা এক ট্যাপে উত্তর দেন। শুরু বিনামূল্যে।



